দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ক্রিকেট তারকা ইমরান খানকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আবারও কারাগারে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকালে রাজধানী ইসলামাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে আদিয়ালা কারাগারে ফেরত পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে পাকিস্তান সরকার।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানান, আদালতের নির্দেশে মধ্যরাতের পর ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসা পরীক্ষা শেষে তাঁকে কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও একজন চিকিৎসকসহ যোগ্য চিকিৎসকদের একটি দল ইমরান খানের বিস্তারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। পরীক্ষার পর তাঁকে চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ বা কারাগারে থাকার উপযোগী ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর বোনও পুরো সময় স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় উপস্থিত ছিলেন।
ইমরানের স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে চলতি মাসে তাঁর দুই ছেলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁরা দাবি করেছিলেন, কারাগারে থাকা বাবার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ তাঁরা পাচ্ছেন না। ইমরানের পরিবার ও আইনজীবী এর আগে জানিয়েছিলেন, তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির বড় অংশ নষ্ট হয়ে গেছে।
পাকিস্তান সরকার অবশ্য দাবি করে আসছে, কারাবন্দিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয় এবং প্রয়োজন হলে তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনাকে তাঁর সমর্থক ও দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতারা দীর্ঘদিনের উন্নত চিকিৎসার দাবির সাফল্য হিসেবে দেখেছেন। পিটিআইয়ের জ্যেষ্ঠ নেতা জুলফিকার বুখারি এটিকে রাজনৈতিক ছাড় নয়, বরং সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছিলেন।
মঙ্গলবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং বোন উজমা খানকে নিয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাপ্তাহিক সাক্ষাতের ব্যবস্থাও পুনর্বহাল করেন।
একসময় কোটি মানুষের জনপ্রিয় নেতা ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০২২ সালে সংসদে অনাস্থা ভোটে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। এর এক বছর পর দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য প্রকাশের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। ইমরান খান ও তাঁর সমর্থকেরা এসব মামলাকে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দাবি করে আসছেন।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/